লিখুন
ফলো

আমাদের নতুন খবর গুলো পেতে এখনি সাইন আপ করুন

ঐতিহাসিক যে যুদ্ধ সমাপ্ত হয়েছিল মাত্র ৩৮ মিনিটেই!

‘যুদ্ধ’ কথাটি শুনলেই আমাদের চোখের সামনে যে দৃশ্যটি ভেসে ওঠে তা হচ্ছে গোলাবারুদ, ট্যাংক, কামান আর সৈন্যসামন্ত নিয়ে শত্রু পক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া। যতক্ষণ পর্যন্ত শত্রুপক্ষ পরাজিত না হয় বা হাল না ছেড়ে দেয় ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধ চলতে থাকে। ‌ আর এভাবেই সময় গড়িয়ে যায় মাসের পর মাস, বছরের পর বছর, অনেক ক্ষেত্রে যুগের পর যুগ।

তবে আজকে আমরা এমন একটি যুদ্ধের গল্প শুনবো যা শেষ হয়েছিল মাত্র ৩৮ মিনিটে। ‘গিনিস বুক অফ রেকর্ডস’ অনুযায়ী এটি বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম যুদ্ধ। তবে ক্ষুদ্রতম যুদ্ধ বলে এ যুদ্ধের গুরুত্ব কিন্তু মোটেও কম ছিল না। কারণ এই যুদ্ধে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পরাধীন হয়ে যায়। যে পরাধীনতা থেকে স্বাধীনতা আনতে পরবর্তী কয়েক দশক ধরে সংগ্রাম করতে হয়েছে, রক্ত ঝরাতে হয়েছে। তাই মাত্র ৩৮ মিনিটে শেষ হলেও ওই যুদ্ধের প্রভাব এবং প্রেক্ষাপট ছিল অনেক বিস্তৃত এবং গুরুত্বপূর্ণ।

বলছিলাম অ্যাংলো-জাঞ্জিবার যুদ্ধের কথা। এত কম সময়ে শেষ হয়েছিল বলে অনেক ইতিহাসবিদ আবার ভ্রু কুঁচকান। তাদের ভাষ্যমতে, এত কম সময়ে সমাপ্ত হলে তাকে আবার যুদ্ধ বলা যায় নাকি! যা-ই হোক না কেন, সবকিছু ছাপিয়ে এটি ছিল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। অ্যাংগো-জাঞ্জিবার যুদ্ধ ইতিহাসের পাতায় ঠায় নিয়েছে সর্বকালের ক্ষুদ্রতম যুদ্ধ হিসেবে। আসুন জেনে নেয়া যাক ঐতিহাসিক ৩৮ মিনিটের এই যুদ্ধ সম্পর্কে।

আফ্রিকা মহাদেশে জাঞ্জিবারের অবস্থান; image: eskify.com
ঊনিশ শতাব্দীর শেষের দিকের কথা। তখন জাঞ্জিবার ছিল একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। জাঞ্জিবার তাঞ্জানিয়ার পূর্ব উপকূলবর্তী কয়েকটি দ্বীপ দ্বারা গঠিত একটি রাষ্ট্র, যা বর্তমানে তাঞ্জানিয়ার আধা সায়ত্ব শাসিত অঞ্চল। সে সময় হামিদ বিন তোয়াইনি ছিলেন জাঞ্জিবারের সুলতান। ব্রিটিশরা তখন ব্যবসাকে পুঁজি করে জাঞ্জিবারে নিজেদের অধিপত্য কায়েম করে ফেলেছে। তাদের পরিকল্পনা ছিল সুলতান হামিদ বিন তোয়াইনি এর মৃত্যুর পর ক্ষমতায় বসানো হবে হামাদ বিন মুহাম্মদকে। যাতে করে তারা বিন মুহাম্মদকে তাদের স্বার্থে ব্যবহার করে জাঞ্জিবারকে মূলত একটি অকার্যকর পরাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারে।

২৫ আগস্ট, ১৮৯৬ সালে সুলতান হামিদ বিন তোয়াইনি মৃত্যুর পর তাদের পরিকল্পনা পুরোপুরি ভেস্তে যায়। তাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে সিংহাসনে বসেন খালিদ বিন বারঘাস। খালিদ বিন বারঘাস ছিলেন কট্টর ব্রিটিশবিরোধী এবং যেকোনো মূল্যে জাঞ্জিবারের স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখার পক্ষে। এর আগে ১৮৮৬ সালে জাঞ্জিবারের সুলতান ব্রিটিশদের সাথে একটি চুক্তি করে। চুক্তির শর্ত ছিল সুলতানের মৃত্যুর পর নতুন কেউ সিংহাসনে বসতে হলে ব্রিটিশ কাউন্সিলের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু ব্রিটিশদের কাছ থেকে অনুমতি না নিয়েই সিংহাসনে বসেন খালিদ বিন বারঘাস। ব্রিটিশরা এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়নি।

সুলতান খালিদ বিন বারঘাস; image: wikipedia
ব্রিটিশরা খালিদ বিন বারঘাস এবং তার সৈন্যদেরকে রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করার জন্য নির্ধারিত সময় বেধে দেয়। কিন্তু খালিদ ব্রিটিশদের কথায় কর্ণপাত না করে রাজপ্রাসাদের আশেপাশে সৈন্যসংখ্যা বাড়াতে থাকেন। আর তিনি নিজে রাজপ্রাসাদের সিংহাসনে অবস্থান করেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই সূত্রপাত হয় অ্যাংলো-জাঞ্জিবার যুদ্ধের।

যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

১৪৯৯ সাল থেকে জাঞ্জিবার পর্তুগিজদের অধীনে ছিল। সেসময় পর্তুগিজরাই জাঞ্জিবার শাসন করতেন। ১৬৫৮ সালে ওমানের সুলতান পর্তুগিজদের বিতাড়িত করে নিজের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় জাঞ্জিবার হয়ে ওঠে ওমানের অংশ।

কিন্তু স্বাধীনতাকামী জাঞ্জিবারের সুলতান তা বেশিদিন মেনে নেয়নি। ১৮৫৮ সালে সুলতান মাজিদ বিন সাঈদ এই দ্বীপকে ওমান থেকে স্বাধীন দাবি করেন। তখন অবশ্য ব্রিটিশরা মাজিদকে সমর্থন জানায়। মাজিদের পরের সুলতানরা জাঞ্জিবারকে গড়ে তোলেন স্বাধীন আধুনিক শহর হিসেবে। সমুদ্রের পাড়ে গড়ে তোলেন বিশাল এক রাজপ্রাসাদ। আর তলে তলে ব্রিটিশরা ব্যবসায়ের নাম করে সমগ্র জাঞ্জিবার জুড়ে নিজেদের অধিপত্য বিস্তার করতে থাকে।

সমুদ্রের পাড়ে বিশাল রাজপ্রাসাদ গড়ে তুললেও সেই রাজপ্রাসাদে কোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই ছিল না। ধারণা করা হয় ব্রিটিশদের পরামর্শে নির্মিত প্রাসাদের দুর্বলতা তাদেরই ষড়যন্ত্রের একটা অংশ ছিল। এসময় জাঞ্জিবার সুলতানের সাথে ব্রিটিশরা তাল মিলিয়ে চলছিলেন এবং তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

১৮৮৬ সালের পর থেকে জাঞ্জিবার সরকারের ওপর ব্রিটিশরা প্রকাশ্যে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। ১৮৯০ সালে খলিফা মৃত্যুবরণ করলে আলী বিন সাঈদ সিংহাসনে বসেন। তিনি ঐ অঞ্চলে ব্রিটিশদের মদদে বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়া দাস প্রথা বন্ধ করে দেন। সুলতান আলী বিন সাঈদ জাঞ্জিবারকে ব্রিটিশদের উপনিবেশ হিসেবে ঘোষণা করেন। সেসময় ঐ অঞ্চলে ব্রিটিশদের বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ছিলেন লয়েড ম্যাথিউস। সুলতান ম্যাথিউসকে তার মন্ত্রিপরিষদের প্রথম সারির মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। ব্রিটিশরাও এই সুযোগে চুক্তিটা করে নেয়। চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়, ভবিষ্যতে কেউ সুলতান হতে গেলেই ব্রিটিশদের অনুমতি লাগবে। আর এই চুক্তি করার ফলে বিপাকে পড়েন পরবর্তী সুলতানরা।

ব্রিটিশ আর্মি জেনারেল লয়েড ম্যাথিউস; image: wikipedia
১৮৯৩ সালে ক্ষমতায় বসেন সুলতান হামাদ বিন তাওয়াইনি। তার শাসনামলেও ব্রিটিশদের সাথে মোটামুটি সম্পর্ক ভালই ছিল। তবে রাজ্যের জনগণের সাথে ব্রিটিশদের একটা বৈরিতা ছিল। কেননা আফ্রিকার ওই অঞ্চলে দাস প্রথা ছিল অর্থনৈতিকভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দাস প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার ফলে জনগণ ব্রিটিশদের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতে থাকে।

আরো পড়ুনঃ

দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ হওয়ার কারণ এবং যার ফলশ্রুতি এর ভয়াবহ পরিণতি

ইসরায়েলি ষড়যন্ত্রের হাজার বছরের ইতিহাস

বিদ্রোহী এই লোকদের দমন করার জন্য সুলতান এক হাজার সদস্যের একটি সশস্ত্র বাহিনী গঠন করেন। আর এই বাহিনী গঠনের পরামর্শ দিয়েছিল ব্রিটিশরাই। কিন্তু কিছুদিন পর চিত্র পাল্টে যেতে লাগলো। এই বাহিনীর সদস্যরাই বিভিন্ন ইস্যুতে ব্রিটিশ সৈন্যদের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায়ই ছোটখাট বিষয় নিয়ে ব্রিটিশ সৈন্যদের সাথে এই বাহিনীর বিরোধ লেগেই থাকত। এজন্য ব্রিটিশদের কাছ থেকে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ আসতে থাকে সুলতানের কাছে।

এদিকে ব্রিটিশদের সাথে জার্মানদের বেশ বৈরিতা চলছিল সেই সময়। জার্মানরা সুলতানের ভাতিজা খালিদ বিন বারঘাসের সাথে পরামর্শ করে। জার্মানরা ১৮৯৬ সুলতানের মৃত্যুর পর খালিদ বিন বারঘাসকে ক্ষমতায় বসতে সহায়তা করে। কিন্তু ব্রিটিশরা এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি। প্রথমত, তাদের অনুমতি ছাড়া কেউ সুলতান হতে পারবে না দ্বিতীয়ত, তারা চেয়েছিল সুলতানের মৃত্যুর পর হামাদ বিন মুহাম্মদকে সিংহাসনে বসাবে।

যুদ্ধ
যুদ্ধের পরবর্তী অবস্থা; image: wikipedia
ইতিপূর্বে সুলতান আলী বিন সাঈদের মৃত্যুর পরও ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য উঠে-পড়ে লেগেছিলেন খালিদ বিন বারঘাস। সে সময় ব্রিটিশরা তাকে সতর্ক করে দিয়েছিল, তিনি যেন কোনোভাবেই এমন বিপদজনক সিদ্ধান্ত না নেন। তখন দমে গেলেও তিন বছর পর সুলতান হামাদের মৃত্যুর পর ব্রিটিশরা তাকে কোনোভাবেই দমাতে পারেনি।

খালিদ ব্রিটিশদের হুমকি উপেক্ষা করে তার সৈন্যদেরকে ক্যাপ্টেন সালেহর তত্বাবধানে দেন। ক্যাপ্টেন সালেহকে নির্দেশ দেন রাজপ্রাসাদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য। খালিদ মাত্র একদিনের মধ্যে স্থানীয় লোকদের ধরে সৈন্যবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করেন। অবশেষে তারা ২,৮০০ সদস্যের একটি বাহিনী তৈরি করেন।

কিছু আর্টিলারি, মেশিনগান, গ্যাটলিং গান ও একটি ব্রোঞ্জ ক্যাননের মাধ্যমে গড়ে তোলেন সশস্ত্র বাহিনী। এছাড়া ‘এইচএইচএস গ্ল্যাসগো’ নামের একটি রাজকীয় যুদ্ধ জাহাজ দিয়ে কিছু সৈন্যদের মাধ্যমে নৌবাহিনীও গঠন করেন। এই ‘এইচএইচএস গ্ল্যাসগো’ একসময় ব্রিটিশ রানী জাঞ্জিবারের সুলতানকে উপহার দিয়েছিলেন।

image: Wikipedia
অন্যদিকে ব্রিটিশরা তোরজোর করে ১০৫০ জন সুপ্রশিক্ষিত সশস্ত্র সৈন্য সংগ্রহ করতে সমর্থ হয়। আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত পাঁচটি রাজকীয় যুদ্ধজাহাজ। এর মধ্যে তিনটি ছিল ক্রুজার, আর বাকি দুটি গানবোট। ‘এইচএমএস থ্রাস’ নামে একটি বিখ্যাত গানবোট ছিল। সাথে ১৫০ জন দক্ষ নৌ সেনা। ব্রিটিশ নেভির দায়িত্বে ছিলেন সেন্ট জর্জ রওসন।

শুরু হল যুদ্ধ

ব্রিটিশরা খালিদকে ২৭ আগস্ট সকাল ৯টা পর্যন্ত সময় বেধে দেয়। এর মধ্যে যদি পতাকা নামিয়ে রাজপ্রাসাদ ত্যাগ না করেন, তাহলে তারা আক্রমণ করতে বাধ্য হবে। ব্রিটিশ কূটনৈতিক বাসিল কেভ খালিদকে বোঝানোর চেষ্টা করেন এবং আলোচনার আহ্বান জানান। কিন্তু সব চেষ্টাই বিফলে যায়।

সুলতান খালিদ তার অবস্থানে অনড় রইলেন। নিজের দেশ এবং জন্মভূমিকে স্বাধীন রাখার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিলেন। যদিও ওই যুদ্ধে জাঞ্জিবারের পরাজয় ছিল নিশ্চিত। কারণ ব্রিটিশদের আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের সামনে তার অপ্রশিক্ষিত সৈন্যরা কিছুই না। তবুও তিনি দমে গেলেন না।

২৬ আগস্ট হার্বার থেকে সকল প্রকার বাণিজ্যিক জাহাজ সরিয়ে নেওয়া হয়। ব্রিটিশ নারী ও শিশুদেরকেও নিরাপদ জায়গায় নেওয়া হয়। সেদিন রাত্রে ছিল থমথমে। অন্যান্য দিন শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে বাদ্যযন্ত্রের শব্দ শোনা যেত। কিন্তু সেদিন ছিল সম্পূর্ণ নিস্তব্ধ। কারণ পরদিন সকাল ৯টায় সময় শেষ হচ্ছে।

সুলতানের সৈন্যরা ছিল অদক্ষ; image: eskify.com
পরদিন সকালে খালিদ একজন প্রতিনিধি পাঠায় কেভের কাছে। তিনি যেন তাদের সৈন্য সরিয়ে নেন। কিন্তু কেভ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সুলতান যদি শর্ত মেনে নেন তবেই তারা সৈন্য প্রত্যাহার করবে। এরপর আবার প্রতিনিধি পাঠান খালিদ এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে ব্রিটিশরা তাদের ওপর হামলা চালাবে না। কিন্তু ব্রিটিশরা তাদের সিদ্ধান্তে অনড় রইল। ঘড়িতে তখন ৮:৫৫ বেজে গেছে। অনেক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর জর্জ রওসন তার বাহিনীকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে বলেন।

অবশেষে ৯:০২ মিনিটে ব্রিটিশরা রাজপ্রাসাদকে লক্ষ্য করে গোলা ছোড়ে। শুরু হয় যুদ্ধ। অপরদিকে সুলতান বাহিনীর পক্ষ থেকেও গুলি ছোড়া শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন ধরে যায় রাজপ্রাসাদে। সুলতান খালিদের বাহিনী কিছু কামান, আর্টিলারি নিয়ে রাজপ্রাসাদের সামনে অবস্থান করে।

যুদ্ধ শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্রিটিশরা সুলতানের বিখ্যাত ‘এইচএইচএস গ্ল্যাসগো’ যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেয়। সুলতানের অপ্রশিক্ষিত এবং অদক্ষ সৈন্যরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। অন্যদিকে ব্রিটিশ সৈন্যরা ক্ষিপ্রতার সাথে আক্রমণ পরিচালনা করতে থাকে। তাছাড়া কৌশলগতভাবেও ব্রিটিশরা ভালো অবস্থানে ছিল। ব্রিটিশ সৈন্যদের আক্রমণের কয়েক মিনিটের মধ্যেই সুলতানের সৈন্যরা যুদ্ধের মাঠ ছেড়ে পালাতে থাকে।

যুদ্ধ পরবর্তী বিধ্বস্ত অবস্থা; image: eskify.com
এরপর ৯:৪০ মিনিটে ব্রিটিশ সৈন্যরা রাজপ্রাসাদে ঢুকে আগুন দিয়ে পতাকা পুড়িয়ে দেয়। সমাপ্তি ঘটে যুদ্ধের। এ যুদ্ধে সুলতান বাহিনীর প্রায় ৫০০ জন সৈন্য নিহত হয়। অপরদিকে মাত্র ১ জন ব্রিটিশ নাবিক আহত হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরপরই ব্রিটিশরা হামাদ বিন মুহাম্মদকে ক্ষমতায় বসায়। এরপর জাঞ্জিবারের উপর প্রতিষ্ঠিত হয় ব্রিটিশদের একচ্ছত্র অধিপত্য।

ব্রিটিশ সৈন্যরা সর্বপ্রথম গুলি করেছিল ৯:০২ মিনিটে। এ সময়টাকে যুদ্ধের শুরু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এবং ব্রিটিশ সৈন্যরা রাজপ্রাসাদে ঢুকে পতাকা পুড়িয়ে দেয় ৯:৪০ মিনিটে। সে সময়টা যুদ্ধের শেষ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই হিসাব মতে যুদ্ধে ব্যয়িত মোট সময় ৩৮ মিনিট। পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত যুদ্ধ হিসেবে এটি গিনেস বুক অব রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছে। অনেকেই এই যুদ্ধকে ব্যঙ্গ করে “দ্য ব্রেকফাস্ট ওয়ার” নাম দিয়েছেন।

image: mkv.com
এরপর আরো ৬৭ বছর ব্রিটিশরা জাঞ্জিবারের ক্ষমতা দখল করে ছিল। ১৯৬৬ সালে তারা স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং ব্রিটিশদের অধিকার থেকে বের হয়ে আসে। এক বছর পর দেশটি তাঙ্গানিকা প্রজাতন্ত্রের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করে। কিছুদিন পর তাঙ্গানিকার ‘তান’ এবং জাঞ্জিবারের ‘জান’ মিলিয়ে দেশটির নাম হয় ‘তানজানিয়া’। বর্তমানে ৯৫০ বর্গ মাইলের জাঞ্জিবার তানজানিয়ার একটি আধা-স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চল।

Reference:


This is a Bengali article. It’s About the Anglo-Zanzibar War of 1896 is history’s shortest war.

Featured Image: Eskify 

Total
0
Shares
Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

 
Previous Article

রথসচাইল্ড ফ্যামিলি: বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর এক ইহুদী পরিবার

Next Article

ডু দ্যা রাইট থিং (1989) : স্পাইক লির ম্যাগনাম ওপাস যা তিন দশক পর এখনও প্রাসঙ্গিক

 
Related Posts
আরও পড়ুন

যেভাবে আমেরিকা পরিণত হলো বৈশ্বিক সুপার পাওয়ারে (পর্ব -২) : (ব্রেটন উডস কনফারেন্স থেকে বর্তমান)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরই মূলত বিশ্বজুড়ে আমেরিকার প্রভাব স্থায়ী রুপ লাভ করে। ১৯৪৫ সালে ২৪শে অক্টোবর ৫১টি দেশের অংশগ্রহণে…
আরও পড়ুন

কনস্ট্যান্টিনোপল বিজয়: মুসলিম জাহানের এক গৌরবোজ্জ্বল ঘটনা

১৪৫৩ সালের ২৯ মে সুলতান মুহাম্মদ ফাতেহ সেই সময়কার সবচেয়ে শক্তিশালী সভ্যতা বাইজেন্টাইনকে পরাস্ত করে কনস্ট্যান্টিনোপলের যে ঐতিহাসিক…
আরও পড়ুন

ইহুদীবাদী ইসরায়েলের ইতিহাস (৩য় পর্ব): বেলফোর ঘোষণা এবং এক নতুন ষড়যন্ত্র

ষড়যন্ত্রের সূচনা বিশ শতকের শেষার্ধে। আল-কুদসসহ ফিলিস্তিন ভূখণ্ড তখন উসমানি খেলাফতের শাসনাধীন। যদিও খেলাফতের দাপট নিভু নিভু, তারপরও…
আরও পড়ুন

পাস্তাঃ যে খাবার ছাড়া ইতালিয়ানরা এক প্রকার অসম্পূর্ণ

পাস্তা যা এখনকার দিনগুলোতে খাবারের মধ্যে খুবি জনপ্রিয় একটা নাম। সন্ধ্যা বেলায় ঘরে-বাইরে কোন খাবারের কথা যদি বলা…

আমাদের নিউজলেটার জন্য সাইন আপ করুন

আমাদের নতুন খবর গুলো পেতে এখনি সাইন আপ করুন

Sign Up for Our Newsletter