লিখুন
ফলো

আমাদের নতুন খবর গুলো পেতে এখনি সাইন আপ করুন

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি ভ্যাক্সসিন ফাইজার এবং মোডের্না কোম্পানির ইতিহাস

সম্প্রতি করোনা ভাইরাস থাবা থেকে পুরো বিশ্ববাসী বেশ কিছুটা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে। কোভিড-১৯ এর ভয়াল থাবায় হাতের মুঠোয় নিয়ে ফেলেছিলো সমগ্র বিশ্বের মানুষদের। কিন্তু বছর না ঘুরতেই একদল পরিশ্রমী বিজ্ঞানীদের সফলতায় ইতিমধ্যেই হাতে চলে এসেছে করোনার ভ্যাকসিন। এই সাফল্যের পেছনে অনেকটাই জড়িয়ে আছে ফাইজার নামক এক ফার্মেসি কোম্পানি। এছাড়া মোডের্না কোম্পানিরও কম অবদান ছিল না। শুধু কোভিড-১৯ নয়, বিশ্বের প্রায় অনেকাংশেই এদের কার্যকরী অবদান দেখার মতো। সম্প্রতি কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন আবিষ্কার করার পর এই কোম্পানিটি বিশ্বের এক বিরল ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে এই ভেবে যে, হয়ত এখন থেকে মৃত্যুর পরিমাণ বাড়বে না বরং কমবে। সফলতার উচ্চতায় পৌঁছানো এই দুই কোম্পানির জন্ম সহ এর ইতিহাস নিয়ে আজ জানবো কীভাবে শূন্য থেকে সফলতার শিখায় পৌঁছালো তারা।
ফাইজার কোম্পানি

করোনা ভাইরাস

মানব দেহে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে যে টিকা বা ভ্যাক্সসিনগুলো গ্রহণ যোগ্যতা পেয়েছে তার মধ্যে ফাইজার প্রথম সারিতে। ফাইজার কোম্পানি নিউ ইয়র্কের একটি বিখ্যাত ফার্মেসি ভিত্তিক কোম্পানি। এটি সাধারণত বেশ নামডাক পেয়েছে তাদের কিছু পণ্য যেমন Advil, Viagra, Xanax এবং Zotoloft এর জন্য। ২০২০ সালে এটি ওষুধ কোম্পানি হিসেবে দ্বিতীয় বৃহত্তম আয়ের কোম্পানি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন ফাইজার কোম্পানিকে কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন তৈরির অনুমোদন দিয়েছে। চার্লস ফাইজার এবং তার এক কাজিন চার্লস এরহারট মিলে ১৮৪৯ সালে এই কোম্পানির আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন।



এর আঁতুড়ঘর ছিল চার্লস ফাইজারের প্রথম বাড়ি ব্রকলিনে। শুরুতে এই কোম্পানিটি একটি অতি সূক্ষ্ম রাসায়নিকের প্রস্তুতকারক হিসেবে কাজ করেন। এটি একটি বিল্ডিঙের বাইরে কাজে লাগানো হয়েছিলো। আস্তে আস্তে কোম্পানিটির প্রসার বাড়তে থাকলে ১৮৬৮ সালে পুরো কোম্পানিটিই ম্যানহাটনে চলে আসে। এবং পরবর্তীতে ১৮৮২ সালে শিকাগোতে তাদের আরেকটি শাখা খোলা হয়। বেশ সফলতা অর্জনকারী কোম্পানিটির একেবারে প্রথম সফল পণ্য হিসেবে ছিল কৃমি নিরাময় এবং স্যান্টনিন। বর্তমানে ফাইজার কোম্পানিটি ভিটামিন সি উৎপাদনের শীর্ষে আছে। ঠাণ্ডা, স্কার্ভি ইত্যাদি রোগের জন্য আমাদের ভিটামিন সি গ্রহণের প্রয়োজন পড়ে। ১৯৫২ সালে এই কোম্পানিটি নতুন আটটি আন্তর্জাতিক স্থানে স্থানান্তরিত হয়। এটি ওষুধ কোম্পানির পাশাপাশি একটি সফল কৃষি বিভাগ খুলে যা পরবর্তীতে সেটি পশু বিভাগ হিসেবেই পরিচিতি লাভ করে। আশ্চর্যজনক একটি তথ্য হচ্ছে, ফাইজার  কোম্পানিটি সাইট্রিক এসিড আবিষ্কারে সক্ষম হয়েছিলো যা ব্যবহৃত হ্য পেপসিতে। এই এসিডের নানান ব্যবহার রয়েছে। বলা যায়, তাদের এই আবিষ্কারের পর বেশ কিছু জিনিস সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছিলো।

ফাইজারের পণ্যসমূহ
বাজারে বেশ কিছু পণ্য দেখা যায় ফাইজার কোম্পানির। বর্তমানে এসব পণ্য বা ওষুধগুলো বেশ জনপ্রিয় তা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো-
Nexium24HR
এটি সাধারণত অম্বলের সমস্যার কাজে ব্যবহৃত হয়।
Prevnar 13
অতি পরিচিত রোগ নিউমোনিয়া হলে সাধারণত যে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয় এটি সেই ভ্যাকসিন তৈরিতেই কাজে লাগে।
Advil
ব্যথানাশক ওষুধে ব্যবহার করা হয়।
Viagra
একটি বিশেষ কাজে ব্যবহৃত হয়।
Xanax
মানসিক প্রতিরক্ষার কাজে ব্যহার করা হয়।



Zoloft
এন্টিডিপ্রেসডের জন্য এটি বেশ জনপ্রিয় একটি পণ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
Lipitor
বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যায় আমরা ভুগছি সেটি হচ্ছে কোলেস্টরেল। এই সমস্যার জন্য এই কোম্পানিটি অভাবনীয় এই পণ্যটি আবিষ্কার করেছে।
Chantix
ধুমপানের কারণে অবসাদ অনুভবের জন্য এটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
Bextra
এটিও বিভিন্ন ব্যথানাশকের সমস্যার কাজে ব্যবহৃত হয়।
Depo-Testosteron
এটি সাধারণত আমাদের দেহের টেস্টেস্টেরন প্রতিস্থাপনের কাজে ব্যবহৃত হয়।
EpiPen
শরীরের বিভিন্ন অ্যালার্জির জন্য জরুরী ভিত্তিতে এটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
Celebrex
প্রদাহজনিত কারণে এবং ব্যথানাশক ওষুধ হিসেবে পরিচিত এটি।
Zithromax
সাধারণত ব্যাকটেরিয়া জনিত কোন ইনফেকশনের উপশমের কাজে ব্যবহৃত।
Eliquis
সাধারণত “ব্ল্যাড থিনার” নামে এক চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।



Protonix
এসিডের একটি বিশেষ কাজে ব্যবহৃত হয়।
Prempro
আমাদের শরীরের হরমোন প্রতিস্থাপনের কাজে এটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
Effexor
এন্টিডিপ্রেসেন্টের কাজে বহুল ব্যবহৃত।
এসব পণ্যের পাশাপাশি সম্প্রতি কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে সক্ষম হয় ফাইজার কোম্পানি। এটি করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে। জানা যায়, এই নিয়ে প্রায় ৬৬টি টিকা রয়েছে যার মধ্যে ১৭ টি প্রথম সারিতে ট্রায়ালে ছিল। বাকি ২৩ টি ১ম-২য় সারিতে, ৬ টি ২য় সারিতে এবং ২০ টি তৃতীয় সারিতে অবস্থান করেছে।
ফেব্রুয়ারি ২০০২১ সালে দশটি ভ্যাকসিনকে অনুমোদন দেয়া হয়  যার মধে ফাইজার একটি ছিল। নিউ ইয়র্কের এই কোম্পানিটি একসময় বেশ সাড়া জাগানো সফলতা লাভ করেন। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন মানুষের মধ্যে এই টিকা প্রয়োগের পরিকল্পনা করা হয়। সর্বশেষ পর্যন্ত জানা যায়, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় ১০১.৩১ মিলিয়ন কোভিড-১৯ এর ডোজ দেয়া হয়। ফাইজার কোম্পানির মতে, এই বছরের মধ্যে ৫.৩ মিলিয়ন ডোজ তৈরি সম্ভব আর এই ডোজ প্রয়োগ করা হবে প্রায় ৩ মিলিয়ন মানুষকে।


সম্প্রতি ফাইজারের টিকা নিয়ে সারা বিশ্বে যে তোলপাড় শুরু হয়েছে এই তোলপাড়ের পেছনে টিকা আবিষ্কারের পেছনে যারা ছিলেন তাদের গল্পটা আমাদের অনেকের কাছেই স্রেফ একটা অজানা গল্প। জার্মানির এক সফল চিকিৎসক দম্পতির গবেষণার ফলেই আজকে এই টিকার জন্ম হয়েছে। তাদের এই আবিষ্কার পৌঁছে দিয়েছে সেরা সাফল্যের দিকে। এই সফল দম্পতি এখন জার্মানির ধনীদের তালিকায় উঠে এসেছেন। এই সফল দম্পতি হলেন উগুর সাহিন এবং তার সহধর্মিণী ওজলেম টুয়েরেসি। উগুর সাহিন বায়োএন্টেকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং তার স্ত্রী ওজলেম সেই বোর্ডের একজন সদস্য। কয়েক হাজার সদস্য সেখানে কর্মরত আছেন বর্তমানে।
মডার্না কোম্পানি

এটি একটি ওষুধ এবং জৈব প্রযুক্তির একটি অসাধারণ কোম্পানি যা ক্যামব্রিজে অবস্থিত। সাধারণত ওষুধের আবিষ্কার, উন্নতি এবং ভ্যাকসিন টেকনোলোজির দিকেই এদের বেশি শ্রম দিয়ে থাকে। এদের সকল কাজ RNA এর উপর ভিত্তি করে করা হয়ে থাকে। কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন নিয়ে যখন সারা বিশ্বে উত্তাল চলছে তখন নভেম্বরে কোম্পানিটি ঘোষণা দেয় যে তারা তৃতীয় পর্যায়ের একটি পরীক্ষায় কোভিড-১৯ প্রতিরোধে প্রায় শতকরা ৯৪ শতাংশ কার্যকরী এক ভ্যাকসিন আবিষ্কার করে যার ব্যবহার সম্পর্কে প্রাথমিক প্রমাণও দেখিয়েছে।

২০১০ সালে স্টেম সেল নামক এক জীববিজ্ঞানী ডেরিক রজির করা এক গবেষণাকে বাণিজ্যিকীকরণের জন্য মডার্না থেরাপিউটিক্সটি গঠন করেছিলো। ২০১৩ সালে মোডের্না এবং এস্ট্রাজেনেকা ক্যান্সার, বিপাকীয় রোগের চিকিৎসার জন্য এমআরএনএ আবিষ্কার, এর বিকাশ এবং বাণিজ্যের জন্য পাঁচ বছরের একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। সেই বছরই তাদের দল জানায় তারা ইঁদুরের হার্ট বিষয়ক চিকিৎসার উন্নতি সাধন করে যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী ভাবে বেঁচে থাকার জন্য এক বিশেষ কোষের বৃদ্ধি ঘটিয়েছে। ২০১৮ সালে কোম্পানিটি Moderna Inc হিসেবে পুনরায় নামবদ্ধ হয়। এটি টিকার প্রতীক এবং এর বিকাশের জন্য পোর্টফোলিও বাড়াতে সক্ষম হন। একটি বিশেষ মাধ্যমে জানা যায়, যদি এই কোম্পানি সফল হয় তবে ওষুধের জন্য এটি এক প্রকার বিপ্লব সৃষ্টি করবে। এটি সকল প্রকার ক্যান্সার থেকে রক্ষা করবে এবং জিকা ভাইরাস থেকেও বেঁচে আসতে সাহায্য করবে।


আরো পড়ুনঃ

ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারি

স্বর্ণ বাহির করার এটি এম বুথ আছে যে দেশে

বিশ্ব সেরা অনলাইন শপিং সাইট অ্যামাজন সৃষ্টির গল্প

অটোম্যান সাম্রাজ্য এবং তার ইতিহাস

মডার্নার পন্যসমূহ

mRNA-1273

এটি কোভিড-১৯ এর একটি ব্যবহারযোগ্য ভ্যাকসিন তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। সম্প্রতি কোভিড-১৯ এর কবল থেকে রক্ষার জন্য এই কোম্পানি এই ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেন। এছাড়া এটি Merck এর সাথে যুক্ত হয়ে ক্যান্সারের ভ্যাকসিন উন্নতির কাজ করে যাচ্ছে।

Plastic Products

বিভিন্ন ভ্যাকসিনের পাশাপাশি কোম্পানিটি সফলভাবে প্ল্যাস্টিক পণ্যেও বেশ উন্নতিসাধন করেছে। বাজারে পাওয়া যাচ্ছে তাদের পণ্য যা নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটায়। প্ল্যাস্টিকের লিটার বক্স, কজি ট্রাভেলিং এর বিভিন্ন পণ্য, পশু-পাখির বিছানা, ডিনার টেবিলের কাটা চামচ পর্যন্ত।



সাধারণত পশু-পাখিদের বিশেষ করে বিড়াল কুকুরদের জন্যে ব্যবহার করার জন্য লিটার বক্স তৈরি করে থাকে এই কোম্পানি। পশুপ্রেমিদের জন্যে এটি অনেকই সহজ করে দিয়েছে। এতে করে ঘর অপরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। বর্তমানে পশুপ্রেমিদের কাছে এই পণ্যটি সহজলভ্য করে দিয়েছে মোডের্না কোম্পানি। কুকুর বিড়ালদের বিছানা, ঘর ইত্যাদি তৈরিতেও এগিয়ে আছে কোম্পানিটি। আর এইসকল পণ্য এখন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানানভাবে।

মার্চ ২০২১ সালে কোম্পানিটি  প্রথম অংশগ্রহণ করেছে কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন এর কাজে সহায়তা করতে। এছাড়া এটি ২০২১ সালে সেরা উদ্ভাবনী কোম্পানি হিসেবে ঘোষিত হয়েছে বলে জানা যায়। সর্বশেষ জানা যায়, শ্যানন ক্লিঙ্গার এখানে যুক্ত হয় কর্পোরেট অফিসার হিসেবে এবং তারা ঘোষণা দেয়, তারা প্রায় ১৩ মিলিয়ন কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন ফিলিপাইনে সরবাহ করবে।

বর্তমানে এই কোম্পানিটিতে অসংখ্য লোক কর্মরত আছেন এবং অর্থনৈতিক ভাবেও বেশ এগিয়ে আছে। নানান কর্মকাণ্ড ছাড়াও তাদের অর্থনৈতিক অবস্থান সাফল্যমণ্ডিত।

Total
4
Shares
Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

 
Previous Article

গভীর সমুদ্র তলদেশের জীববৈচিত্র্য এবং অদ্ভুত তাদের অভিযোজন ক্ষমতা

Next Article

লাভ (২০২০) : বুদ্ধিদীপ্ত স্ক্রিপ্টিং, ডার্ক কমেডি, সম্পর্কের টানাপোড়ন এবং ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের লেয়ারে মোড়ানো একটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার

 
Related Posts
আরও পড়ুন

উপসাগরীয় যুদ্ধ: সাদ্দাম হোসাইনের কুয়েত দখল এবং এর পরিণতি (পর্ব-৩)

১৯৯১ সালের ১৫ জানুয়ারি বেলা এগারটার দিকে ওভাল অফিসে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ স্থানীয় উপদেষ্টাদের সঙ্গে এক বৈঠক…
আরও পড়ুন

কাঞ্চনজঙ্ঘা: তুষারধবল শুভ্রতায় আচ্ছাদিত ওপারের স্বর্গ

পর্বতের প্রতি মানুষের বিনম্র শ্রদ্ধা সেই আদিকাল থেকেই। আর পর্বতের চূড়া জয় করার মতো গৌরবের ভাগীদার হতে মানুষ…
আরও পড়ুন

তুরস্কের সামরিক অভ্যুত্থানের বিস্তৃত ইতিহাস: ২য় পর্ব

তুরস্কের সামরিক ইতিহাস নিয়ে লিখিত আমাদের দুই পর্বের ধারাবাহিক সিরিজের আজকে দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে আলোচনা করব। বর্তমানে তুরস্ক…
আরও পড়ুন

দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ হওয়ার কারণ এবং যার ফলশ্রুতি এর ভয়াবহ পরিণতি

দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ হলো বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে আলােচিত ও দুঃখজনক ঘটনা। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের স্থায়িত্ব ছিল ১৯৩৯ সাল…

আমাদের নিউজলেটার জন্য সাইন আপ করুন

আমাদের নতুন খবর গুলো পেতে এখনি সাইন আপ করুন

Sign Up for Our Newsletter