লিখুন
ফলো

আমাদের নতুন খবর গুলো পেতে এখনি সাইন আপ করুন

বয়েজ অ্যান দ্যা হুড (1991) : আমেরিকান পপ কালচার বদলে দেয়া কামিং-অফ-এইজ ফিল্ম

বয়েজ অ্যান দ্যা হুড (১৯৯১) একটি আমেরিকান কামিং-অফ-এইজ হুড ড্রামা ফিল্ম। হুড ফিল্ম বলতে ঐ জনরাকে বোঝানো হয় যেখানে আফ্রিকান আমেরিকানদের জীবনের নানা দিক উঠে। হিপহপ মিউজিক, স্ট্রীট গ্যাং, বর্ণবৈষম্য, ভাঙ্গা পরিবার, ড্রাগ অ্যাবিউজ, ড্রাগ ট্রাফিকিং, দারিদ্র্য এবং গ্যাং অ্যাক্টিভিটি এই জনরার মুভির মূল উপজীব্য বিষয়বস্তু। 

এই মুভির গল্পকার এবং পরিচালক জন সিঙ্গেলটন। সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন স্ট্যানলি ক্লার্ক এবং সিনেম্যাটোগ্রাফিতে ছিলেন চার্লস মিলস। ১১২ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই মুভিটি মুক্তি পায় ১৯৯১ সালের ১২ই জুলাই। এটির আইএমডিবি রেটিং ৭.৮ এবং  রটেন টমাটোজ  এ ৯৬% ফ্রেশনেস ও ৯৩% অডিয়েন্স স্কোর নিয়ে অবস্থান করছে। এই মুভির নাম নেওয়া হয়েছে ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত র‍্যাপ গ্রুপ এন.ডব্লিউ.এ (নিগাজ উইথ অ্যাটিচুডস) এর একই নামের গান হতে। এই গানের রচয়িতা আইস কিউব আবার এই মুভিতে অভিনয় করেছেন একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে।

সিঙ্গেলটন মুভিটির কাহিনী লেখা শুরু করেন ১৯৮৬ সালে ফিল্ম স্কুলে ঢোকার রিকোয়ারমেন্ট হিসেবে। ১৯৯০ সালে তিনি স্ক্রিপ্টটি বিক্রি করে দেন কলম্বিয়া পিকচার্সের কাছে। স্ক্রিপ্ট লেখার সময় তিনি নিজের এবং তাঁর পরিচিত লোকদের জীবনের ঘটনাবলি থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন। এই মুভিটি তাঁরই পরিচালনা করা উচিত এটিও কলম্বিয়া পিকচার্স কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়েছিলেন সিঙ্গেলটন। ২০০২ সালে আমেরিকার লাইব্রেরি অফ কংগ্রেস এটিকে সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক এবং নান্দনিকতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে ন্যাশনাল ফিল্ম রেজিস্ট্রিতে সংরক্ষণের জন্য নির্বাচিত করে।

বয়েজ অ্যান দ্যা হুড
Image Courtesy : filmschoolrejects.com
বয়েজ অ্যান দ্যা হুড (১৯৯১) এর শুরুতেই বুঝতে পারবেন যে আপনি সিরিয়াস কিছু দেখতে চলেছেন৷ কারণ এই মুভির শুরুতেই স্ক্রিনে ভেসে ওঠে একটি পরিসংখ্যান। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি ২১ জন আফ্রিকান-আমেরিকান তরুণের মধ্যে ১ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাকে গুলি করে তারই সমবয়সী অন্য কোন আফ্রিকান-আমেরিকান তরুণ।

এই গল্পের ক্ষেত্র আমেরিকান ইনার-সিটি। ইনার-সিটি বলতে এমন অঞ্চলকে বোঝানো হয়, যেটি বড় শহরের কেন্দ্রে বা তার কাছাকাছি অবস্থিত। এখানে নানা সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সমস্যা লেগে থাকে। তাই ইনার-সিটির কোন অভিভাবক তাঁর সন্তান কি ভবিষ্যতে সফল হবে নাকি বিফল হবে? তার ক্যারিয়ার কেমন হবে বা কত টাকা আয় করবে? এসব নিয়ে ভাবার চেয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন তার সন্তান বেঁচে থাকবে কিনা সেটা নিয়ে৷ আর একজন পিতা বা মাতাকে যদি প্রত্যহ তার সন্তানের বাঁচা-মরা নিয়ে ভাবতে হয়, তার চেয়ে দূর্বিষহ কোন পরিস্থিতি কল্পনা করাও মনে হয় আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

এমন একটি সেটিং এ এগিয়ে চলে এই মুভির গল্প। আসুন আমরাও গল্পের দিকে দৃষ্টিপাত করি। গল্পে আমরা প্রথমে একটি বাচ্চা এবং তার বন্ধুদের দেখতে পাই, যারা একসাথে সাথে স্কুলে যাচ্ছে। স্কুলের পথে তার একটি জায়গা অতিক্রম করে যেখানে গত রাতে গোলাগুলি হয়েছে এবং তাজা বুলেটের চিহ্ন এবং রক্তের দাগ এখনো বিদ্যমান। এরপর আমরা ছেলেটিকে দেখি তার স্কুলে। এখানে তার আচার-আচরণে আমরা বুঝি সে মেধাবী তবে তার মধ্যে রয়েছে রাগ এবং একরোখা মনোভাব। স্কুলের শিক্ষকের মতামতও তাই। তার এই মনোভাব এবং বন্ধুর সাথে হাতাহাতির কারণে ৩ দিনের জন্য বহিষ্কার হয় স্কুল থেকে। তখনই তার মা রিভা (অ্যাঞ্জেলা ব্যাসেট) বুঝতে পারেন যে তার কৈশোরে পা রাখতে যাওয়া ছেলে তার কথার চেয়ে বিপথগামী বন্ধুদের কথায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এছাড়া স্কুলের শিক্ষকের সাথে কথা বলার সময় ঐ শিক্ষক যে কৃষ্ণাঙ্গ বলে তাকে ছোট করে দেখেন, সেটি বুঝতে পারেন তিনি। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নেন তার ছেলেকে তিনি পিতার কাছে রেখে আসবেন। তার বাবা ফিউরিয়াস স্টাইল (লরেন্স ফিশবার্ন) একজন মর্টগেজ ব্রোকার। তিনি একই সাথে স্মার্ট এবং রাগী, নিয়মের ব্যাপারে খুবই কড়া। আগে যখন বাচ্চা তার সাথে থাকতে যেত, তখনই তিনি তাকে বাসার নিয়ম-কানুন জানিয়ে দিয়েছিলেন। স্থায়ীভাবে বাবার কাছে ওঠার পর যে আগের নিয়মগুলোই বলবৎ থাকবে সেটিও তিনি জানিয়ে দেন প্রথম রাতেই। তারপর সেন্ট্রাল লস অ্যাঞ্জেলস এর রাস্তায় তার সন্তান পরিচিত হয় অন্যসব নিয়ম-কানুনের সাথে।

Image Courtesy : pinterest.com

আমরা ছেলেটির সাথে ঐ এলাকার অন্যান্য বাচ্চাদেরও দেখি। তার সবচেয়ে কাছের বন্ধুরা হলো দুই সৎভাই। এদের মধ্যে একজন হতে চায় খেলোয়াড় এবং পরবর্তীকালে তার খেলাধুলায় পার্ফম্যান্স এবং মনোযোগ দেখে মনে হয় সে হয়তো কলেজ ফুটবল স্কলারশিপ জিতে নেবে। আরেকজন এখন থেকেই ড্রাগ আর অ্যালকোহলে ঝুঁকে পড়েছে। তবে যতকিছুই হোক এই দুই ভাই এখনো পর্যন্ত এলাকার গ্যাংগুলোতে ঢুকে পড়ে নি। কিন্তু এই অবস্থা বদলে যেতে পারে যেকোন সময়। কারো ‘অপমান’ এর বদলা নিতে এবং নিজেদের ‘পুরুষত্ব’ প্রমাণ করতে তারাও পা বাড়াতে পারে অপরাধের অন্ধকার পথে৷ যেটি তাদের এলাকায় খুবই সাধারণত ঘটনা।

যাকে আমরা এই গল্পের নায়ক হিসেবে দেখি, সেই ১৭ বছরের বুদ্ধিমান তরুণ ট্রে স্টাইলস (কিউবা গুডিং জুনিয়র) হয়তো ভবিষ্যতে পড়াশোনা এবং কর্মক্ষেত্র উভয় জায়গাতেই ভালো করবে। তার বাবা ফিউরিয়াস এই এলাকাতেই পাপের পথে পা না বাড়িয়ে বেড়ে উঠেছেন এবং নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, গিয়েছিলেন ভিয়েতনাম যুদ্ধেও। তিনি তার এলাকাকে দুইটি দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেন। এগুলো হলো :-

১. এটি এমন একটি জায়গা যেখানে তরুণরা নিজেদের এলাকা নির্ধারণ করে এবং ভায়োলেন্সর মাধ্যমে তা রক্ষা করে। 

এবং ২. তার চোখে এটি একটি পরিবর্তনশীল রিয়েল স্টেট মার্কেট; এখানে যদি হত্যা, খুন, রাহাজানি, অস্থিতিশীলতা এগুলো চলে, তাহলে বিনিয়োগকারীরা সহজে কমদামে এখানকার জায়গাগুলো কিনে নিতে পারবে এবং ভদ্রলোকদের কাছে বিক্রি করে অনেক টাকা লাভ করতে পারবে। 

Image Courtesy : dollhousehothouse.blogspot

ফিউরিয়াসের এই যে মনোভাব, এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, আমাদের নায়কের মনস্তত্বে তার পিতার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।

এই এলাকায় তার সন্তানের সুষ্ঠুভাবে বেড়ে ওঠার পথে ড্রাগ, গ্যাং, খারাপ সঙ্গসহ যেসব বিপদ রয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারে ফিউরিয়াস ভালোভাবেই ওয়াকিবহাল। কিন্তু তার পক্ষে সবসময় সব জায়গায় ছেলেকে রক্ষা করার জন্য উপস্থিত থাকা সম্ভব না। 

এই জায়গায় এসে ডিরেক্টরের অ্যাটেনশন টু ডিটেইলের দিকে একটু মনোযোগ দেওয়া যাক। এইসব ডিটেইলিং এর ক্ষেত্রে আপনি সিঙ্গেলটন আর স্পাইক লি’র মধ্যে খুব মিল খুঁজে পাবেন। সবগুলো ক্যারেক্টারকেই পর্যাপ্ত সময় দিয়ে গড়ে তুলেছেন তিনি, পাশাপাশি তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকেও ব্যাখ্যা করেছেন। বিশেষ করে ট্রে’র পরিবারের পর তিনি ব্যাখ্যা করেছেন বেকার পরিবারের পরিস্থিতি। এখানে আমরা দেখি মিস বেকার (টাইরা ফ্যারেল) তার দুই ছেলে ডাগবয় (র‍্যাপ শিল্পী আইস কিউব) এবং রিকি’র (মরিস চেস্টনাট) মধ্যে রিকিকে বেশি ভালোবাসেন।

Image Courtesy : locarnofilmfestival.ch

ডাগবয়কে আপনি কোনভাবেই খারাপ মানুষ বলতে পারবেন না। তবে তার মাদক এবং মদে আসক্তি আছে এবং কয়েকদিন পর পর সে কোন না কোন ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে। তার দিন কাটে নিজের বাসার সামনের সিড়িতে বসে মাতাল হয়ে, নানা প্ল্যান করে এবং বিভিন্ন সমস্যার কথা বকবক করে।

তারা এমন একটি এলাকায় বাস করে যেখানে ভায়োলেন্স জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এখানে পুলিশ হেলিকপ্টারের সার্চলাইট আর জেলের গার্ডের লাইটের মধ্যে তেমন বেশি দূরত্ব বা পার্থক্য নেই। একটা বাচ্চা চকলেট কিনতে দোকানে গিয়ে আর ফিরে না আসা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। পুলিশ আসলে নিরপরাধ মানুষ হাঁফ ছেড়ে বাঁচে না, বরং তাদেরকে মনে করে তাদেরকে ভাবে ভিলেন হিসেবে। কিছু পুলিশ আবার কৃষ্ণাঙ্গ হয়েও নিজের স্বজাতিকে ছোট চোখে দেখে, ঘৃণা করে। 

আরো পড়ুনঃ

স্টেট অফ গ্রেইস (১৯৯০) : নাইন্টিজের আন্ডাররেটেড জেম

বেনসন অ্যান্ড হেজেস : রাজকীয় ব্রিটিশ সিগারেটের সাতকাহন [পর্ব-২]

এক গ্রীষ্মে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ট্রে এর জীবনে নেমে আসে বিভীষিকা। তার বান্ধবী, বাবার সাথে সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, স্ট্রীট গ্যাংয়ের ভীতি এক এক করে এসবকিছু তাকে ফেলে দেয় গভীর সংকটে। সিঙ্গেলটনের মজবুত স্ক্রিনপ্লে আমাদেরকে এই চলচ্চিত্রের আরো গভীরে নিয়ে যায়। আমরা প্রতিটি ক্যারেক্টার এবং তাদের মোটিভেশন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকি, বুঝতে পারি পরবর্তীতে কি ঘটছে এবং কেন ঘটছে।

Image Courtesy : cnn.com

অন্য কোন অ্যাকশন ফ্লিক হলে হয়তো এই মুভির উপকরণসমূহকে ভাসা-ভাসা ভাবে ব্যবহার করা হতো। হয়তো দেখতাম গল্পের চরিত্রগুলোকে ভালো বা খারাপের রং এ রাঙিয়ে দেয়া হতো। শেষের দিকে হয়তো ভালো-মন্দের যুদ্ধ লাগতো এবং ব্যাপক ভায়োলেন্স ও গানফায়ারের মাধ্যমে ভালো মন্দকে শায়েস্তা করতো৷

কিন্তু সিঙ্গেলটন তার চরিত্রসমূহের ব্যাপারে খুবই যত্নশীল। তিনি তাদেরকে বাঁধা-ধরা ভালো-খারাপের ছকে বাঁধতে চান নি। বরং তিনি এইসকল চরিত্রের মানবিকতা, মমত্ববোধ, আবেগ, স্পৃহা এবং টানকে প্রস্ফুটিত করতে চেয়েছেন। 

যেমন উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মুভির শেষের দিকের সকালবেলার দৃশ্যের কথা। অনেকদিন পর ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে ডাগ বয় রাস্তা পেরিয়ে তার বন্ধু ট্রে’র সাথে আলাপ করতে যায়। এসময় আমরা তার মধ্যে একই সাথে অ্যাকসেপ্টেন্স এবং মানসিক স্থিতিশীলতা বা শান্তি লক্ষ্য করি। ডাগ বয় জানে কি হবে বা কি হতে পারে। তারপরও সে চায় তার বন্ধু এই খাঁচা থেকে বেরিয়ে যাক, নিজের ভবিষ্যতের কথা ভাবুক, জীবনে কিছু করুক।

বয়েজ অ্যান দ্যা হুড (১৯৯১) এর সবচেয়ে ভালো দিক হলো এর ম্যাচিউরিটি এবং ইমোশনাল ডেপথ। এটি দেখার পুরোটা সময়ব্যাপী আপনি অনুভব করবেন সিঙ্গেলটনের জন্য এটি কেবল একটি মুভি নয়, এই ক্যারেক্টারগুলো কেবল কিছু ক্যারেক্টার নয়। এই গল্প এবং ক্যারেক্টারগুলোকে সিঙ্গেলটন হৃদয়ে ধারণ করেন। এখানে কোন অপ্রয়োজনীয় শট নেই, ড্রামাটাইজেশনের জন্য কোনকিছু যোগ করা হয় নি। বরং সকল ক্ষেত্রে ড্রামাটাইজেশনের চেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বাস্তবতাকে। মুভি দেখার সময় দর্শক কখন এর গল্প এবং চরিত্রগুলোর সাথে মিশে যাবেন কল্পনাও করতে পারবেন না। এটি যে কেবল একটি অসাধারণ ডিরেকটরাল ডেব্যু তা-ই নয়, বরং আমেরিকান সমাজ তথা গোটা বিশ্বের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র। কারণ এখানে এমনসব মানুষের জীবনের গল্প বলা হয়েছে যাদের গল্প বলার, ভাষ্য তুলে ধরার লোকের খুবই অভাব ছিলো এবং এখনও আছে।

Image Courtesy : vanityfair.com

এই চলচ্চিত্র তৈরীর ক্ষেত্রে সিঙ্গেলটনকে বেশকিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিলো। কারণ এধরণের সিনেমা তৎকালীন সময়ে খুব একটা হয় নি। তাই এটিকে ব্ল্যাক রেঁনেসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছবি বলেও ধরা হয়। এটিতে ইনার-সিটিতে একটি বাচ্চার বেড়ে ওঠার বাস্তবিক পরিবেশের দিকে দৃষ্টিপাত করা হয়েছে সুচিন্তিত এবং আন্তরিকতাপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির সাথে। এছাড়াও এটি একটি শক্তিশালী মানবিক গল্প, অস্কার জেতার সকল গুণাবলী উপস্থিত এখানে। সিঙ্গেলটনের এই গল্পে সাবজেক্ট এবং স্টাইল দুটোই বিদ্যমান। এটিতে যে কেবল গুরুগম্ভীর ব্যাপার-স্যাপার তুলে ধরা হয়েছে এমন না, সিনেম্যাটোগ্রাফি আর ডিরেকশনের মুন্সিয়ানার কারণে এই চলচ্চিত্র আপনি উপভোগও করবেন। আর নিজের অভিষেকেই সিঙ্গেলটন এই সিনেমার কুশীলবদের থেকে যে পার্ফম্যান্স আদায় করে নিয়েছেন তা প্রশংসার দাবীদার। সব শিল্পীই নিজেদের চরিত্রে ছিলেন অনবদ্য।

বক্স অফিসের সাফল্য ছাড়াও চলচ্চিত্র ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী অবদান রাখার ক্ষেত্রে সফল হয়েছিলেন জন সিঙ্গেলটন। তিনি আর স্পাইক লি না থাকলে মনে হয় আমরা হুডের এতসব গল্প দেখতাম না। বর্তমানে জর্ডান পিল বা অন্য কোন কৃষ্ণাঙ্গ ডিরেক্টরকে যে অস্কার মাতাতে দেখি, তার পথ কিন্তু খুলে দিয়েছেন সিঙ্গেটনের মত মানুষেরা আর বয়েজ অ্যান দ্যা হুডের মত চলচ্চিত্রসমূহ। মোটকথা, পপুলার কালচার কৃষ্ণাঙ্গদের যেভাবে দেখতো, তার ধরণটাই পাল্টে দিয়েছিলো বয়েজ অ্যান দ্যা হুড (১৯৯১)।

This is a Bangla article. This article is a review of the movie Boyz N The Hood (1991) by John Singleton. 

All the necessary links are hyperlinked. 

Featured images are collected from Google.

Total
1
Shares
Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

 
Previous Article

কেন মহিলারা তাদের চাকরির স্যলারি নিয়ে আলোচনা করে না

Next Article

গল্পটা কোকা কোলার

 
Related Posts
আরও পড়ুন

ব্যানশি : ক্রিমিনালি আন্ডাররেটেড এক অ্যাকশন টিভি সিরিজ

লেখার শুরুতেই যেটা বলা যায় সেটা হলো এই টিভি সিরিজের সাথে আপনারা ২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া একই নামের…
আরও পড়ুন

ডু দ্যা রাইট থিং (1989) : স্পাইক লির ম্যাগনাম ওপাস যা তিন দশক পর এখনও প্রাসঙ্গিক

“কি রকম গরম পড়ছে দেখতে পাচ্ছো? এরকম গরম পড়লে তো দুই গোলার্ধের বরফসহ পুরো দুনিয়াই গলে যাবে!”  স্যাল’স…
আরও পড়ুন

অ্যানায়ুম রাসূলুম (২০১৩) : ডিকেন্সীয় প্রেক্ষাপটে শেক্সপিয়রীয় ট্র্যাজেডির অনবদ্য উপস্থাপন

সবচেয়ে সুন্দর নারীরা কোথায় বাস করে?    -তোমার নিজের দেশে।  প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ার আগে আমাদের নায়ক গল্পের কথককে…
আরও পড়ুন

দ্যা ইয়েলো সী (২০১০) : পরাজিত মানুষের ক্রোধের আখ্যান

“আমার বয়স যখন ১১, তখন এলাকায় র‍্যাবিস ছড়িয়েছিলো। আমার কুকুর তাতে আক্রান্ত হয়। এটি তার মাকে কামড় দেয়…

আমাদের নিউজলেটার জন্য সাইন আপ করুন

আমাদের নতুন খবর গুলো পেতে এখনি সাইন আপ করুন

Sign Up for Our Newsletter